
কীবোর্ড কী? কীবোর্ডের পরিচিতি , কী এর কাজ ও ব্যবহার ।
সূচিপত্রদেখতে ট্যাপ করুন
কম্পিউটারে লেখালেখি করা, কোনো কিছু সার্চ করা, পাসওয়ার্ড টাইপ করা কিংবা বিভিন্ন সফটওয়্যারে কাজ করার জন্য আমরা কীবোর্ড ব্যবহার করি।
কীবোর্ডে অনেকগুলো কী থাকে। কিছু কী দিয়ে আমরা বাংলা, ইংরেজি, আরবিসহ বিভিন্ন ভাষায় টাইপ করি, কিছু কী দিয়ে সংখ্যা লিখি, আবার কিছু কী ব্যবহার করে কম্পিউটারে কমান্ড দিই।
আজকের এই টেক্সট টিউটোরিয়ালে আমরা কীবোর্ডের পরিচিতি, মেইন পার্টগুলো, বিভিন্ন কী এর কাজ এবং প্রয়োজনীয় শর্টকাট সম্পর্কে জানব।
১. কীবোর্ড কী?
কীবোর্ড হলো কম্পিউটারের একটি ইনপুট ডিভাইস। এটি ব্যবহার করে আমরা বাংলা, ইংরেজি, আরবিসহ বিভিন্ন ভাষায় লেখা, সংখ্যা, চিহ্ন এবং বিভিন্ন কমান্ড দিতে পারি।
উদাহরণ: আপনি Microsoft Word এ নিজের নাম লিখতে চান। কীবোর্ডে নামের অক্ষরগুলো টাইপ করলে স্ক্রিনে আপনার নাম দেখা যাবে। আবার Enter চাপলে নতুন লাইনে যেতে পারবেন।
২. কীবোর্ড কেন ব্যবহার করা হয়?
কম্পিউটারে টাইপিং করা এবং বিভিন্ন কাজ দ্রুত করার জন্য কীবোর্ড ব্যবহার করা হয়। যেমন,
• বাংলা, ইংরেজি, আরবিসহ বিভিন্ন ভাষায় লেখালেখি করা।
• সংখ্যা ও বিভিন্ন চিহ্ন টাইপ করা।
• Microsoft Word, Excel ও PowerPoint এ কাজ করা।
• ইন্টারনেটে কোনো কিছু সার্চ করা।
• ফাইল বা ফোল্ডারের নাম পরিবর্তন করা।
• লেখা কপি, কাট ও পেস্ট করা।
• বিভিন্ন শর্টকাট কমান্ড ব্যবহার করা।
• কম্পিউটারের বিভিন্ন অপশন কন্ট্রোল করা।
৩. কীবোর্ডের মেইন পার্টগুলো কী কী?
কীবোর্ডের কীগুলোকে কাজ অনুযায়ী কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। একটি সাধারণ ফুল সাইজ কীবোর্ডে নিচের পাঁচটি পার্ট দেখা যায়।
পার্টের নাম | কাজ ও উদাহরণ |
টাইপিং কী (Typing Keys) | বাংলা, ইংরেজি, আরবিসহ বিভিন্ন ভাষায় অক্ষর, সংখ্যা ও চিহ্ন টাইপ করা। যেমন, নিজের নাম লেখা। |
ফাংশন কী (Function Keys) | বিশেষ কাজ করা। যেমন, F5 দিয়ে ব্রাউজারের পেজ রিফ্রেশ করা। |
নেভিগেশন কী (Navigation Keys) | কার্সর মুভ করা। যেমন, Arrow Keys দিয়ে ডানে বা বামে যাওয়া। |
নাম্বার প্যাড (Number Pad) | দ্রুত সংখ্যা টাইপ করা। যেমন, Excel এ ডাটা এন্ট্রি করা। |
Esc কী (Escape Key) | কাজ ক্যানসেল করা বা মেনু থেকে বের হওয়া। |
৪. টাইপিং কী কী এবং এগুলোর কাজ কী?
কীবোর্ডের যেসব কী দিয়ে আমরা অক্ষর, সংখ্যা ও চিহ্ন লিখি, সেগুলোকে টাইপিং কী বলে। বাংলা, ইংরেজি, আরবিসহ বিভিন্ন ভাষায় টাইপ করতে উপযুক্ত কীবোর্ড লেআউট বা ইনপুট সেটিংস ব্যবহার করা যায়।
1. Spacebar কী
দুটি শব্দের মাঝে স্পেস দেয়। উদাহরণ: Computer School লিখতে দুটি শব্দের মাঝে Spacebar চাপতে হবে।
2. Enter কী
নতুন লাইনে যায় বা কমান্ড কনফার্ম করে। উদাহরণ: Word এ Enter চাপলে নতুন লাইন শুরু হয়।
3. Backspace কী
কার্সরের বাম পাশের অক্ষর ডিলিট করে। উদাহরণ: Schooll লেখার পর একবার Backspace চাপলে বাড়তি l মুছে যাবে।
4. Shift কী
বড় হাতের ইংরেজি অক্ষর ও বিশেষ চিহ্ন টাইপ করে। উদাহরণ: Shift + a চাপলে A লেখা হয়।
5. Caps Lock কী
ইংরেজি বড় হাতের অক্ষর টাইপ করতে ব্যবহার হয়। উদাহরণ: অন করে computer লিখলে COMPUTER দেখা যায়।
6. Tab কী
পরবর্তী ট্যাব পজিশন বা ফর্মের পরবর্তী বক্সে যায়। উদাহরণ: নাম লেখার পর Tab চাপলে পরের বক্সে যাওয়া যায়।
৫. ফাংশন কী কী এবং এগুলোর কাজ কী?
কীবোর্ডের ওপরের দিকে F1 থেকে F12 পর্যন্ত মোট ১২টি ফাংশন কী থাকে। সফটওয়্যার অনুযায়ী এগুলোর কাজ আলাদা হতে পারে।
ফাংশন কী | কাজ ও উদাহরণ |
F1 | অনেক সফটওয়্যারে Help ওপেন করা। |
F2 | Windows এ ফাইল বা ফোল্ডার Rename করা। |
F3 | অনেক সফটওয়্যারে Search ওপেন করা। |
F5 | ব্রাউজারের পেজ Refresh করা। |
F11 | ব্রাউজারে Full Screen অন বা অফ করা। |
F12 | Microsoft Word এ Save As ওপেন করা। |
কিছু ল্যাপটপে Fn কী চেপে ফাংশন কী ব্যবহার করতে হয়।
৬. নেভিগেশন কী কী এবং এগুলোর কাজ কী?
কার্সরকে ডানে, বামে, ওপরে বা নিচে নেওয়া এবং ডকুমেন্টের বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার জন্য নেভিগেশন কী ব্যবহার করা হয়।
Arrow Keys
কার্সর চারদিকে মুভ করে। যেমন, লেখার মাঝখানে ভুল ঠিক করতে কার্সর নেওয়া।
Home
কার্সরকে সাধারণত লাইনের শুরুতে নেয়।
End
কার্সরকে সাধারণত লাইনের শেষে নেয়।
Page Up
ডকুমেন্টের ওপরের দিকে যায়। যেমন, PDF এর আগের অংশ দেখা।
Page Down
ডকুমেন্টের নিচের দিকে যায়।
Delete
সিলেক্ট করা আইটেম বা কার্সরের ডান পাশের অক্ষর ডিলিট করে।
Insert
কিছু সফটওয়্যারে Insert ও Overtype মোড পরিবর্তন করে।
৭. নাম্বার প্যাড কী?
কীবোর্ডের ডান পাশে আলাদা সংখ্যার কীগুলোকে নাম্বার প্যাড বলে। এখানে 0 থেকে 9 পর্যন্ত সংখ্যা এবং যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগের কী থাকে।
উদাহরণ: Excel এ ৫০ জন শিক্ষার্থীর মার্কস টাইপ করার সময় নাম্বার প্যাড ব্যবহার করা সুবিধাজনক। Num Lock অন থাকলে সাধারণত সংখ্যা টাইপ করা যায়। সব কীবোর্ডে আলাদা নাম্বার প্যাড থাকে না।
৮. Esc কী কী কাজে ব্যবহার করা হয়?
Esc এর পূর্ণরূপ Escape। এটি সাধারণত কীবোর্ডের ওপরের বাম পাশে থাকে। কোনো কাজ ক্যানসেল করা বা মেনু বন্ধ করতে এটি ব্যবহার হয়।
উদাহরণ: সফটওয়্যারে কোনো মেনু ওপেন থাকলে অনেক ক্ষেত্রে Esc চাপলেই সেটি বন্ধ হয়ে যায়।
৯. Ctrl, Alt এবং Windows কী এর কাজ
Ctrl কী: শর্টকাট কমান্ডে ব্যবহার হয়। যেমন, Ctrl + C দিয়ে কপি এবং Ctrl + V দিয়ে পেস্ট করা যায়।
Alt কী: বিভিন্ন মেনু ও শর্টকাটে ব্যবহার হয়। যেমন, Alt + Tab দিয়ে ওপেন থাকা উইন্ডোর মধ্যে সুইচ করা যায়।
Windows কী: Windows এর অপশন দ্রুত ওপেন করে। যেমন, Windows + E চাপলে File Explorer ওপেন হয়।
১০. কীবোর্ডের প্রয়োজনীয় শর্টকাট কী
শর্টকাট কী হলো এক বা একাধিক কী ব্যবহার করে দ্রুত কাজ করার কমান্ড। যেমন, মাউস দিয়ে Copy সিলেক্ট না করে Ctrl + C চাপা যায়।
শর্টকাট | কাজ |
Ctrl + A | সব সিলেক্ট করা |
Ctrl + C | কপি করা |
Ctrl + V | পেস্ট করা |
Ctrl + X | কাট করা |
Ctrl + Z | Undo করা |
Ctrl + Y | অনেক সফটওয়্যারে Redo করা |
Ctrl + S | ফাইল সেভ করা |
Ctrl + P | Print অপশন ওপেন করা |
Ctrl + F | লেখা সার্চ করা |
Alt + Tab | উইন্ডো সুইচ করা |
Windows + E | File Explorer ওপেন করা |
Windows + D | ডেস্কটপ দেখানো |
১১. কীবোর্ড কত প্রকার ও কী কী?
ওয়্যারড কীবোর্ড (Wired Keyboard)
যে কীবোর্ড কেবলের মাধ্যমে কম্পিউটারের সঙ্গে কানেক্ট করা হয়। উদাহরণ: USB কেবল দিয়ে কানেক্ট করা কম্পিউটার ল্যাবের কীবোর্ড।
ওয়্যারলেস কীবোর্ড (Wireless Keyboard)
যে কীবোর্ড কেবল ছাড়াই ব্লুটুথ বা USB রিসিভারের মাধ্যমে কানেক্ট হয়। উদাহরণ: ল্যাপটপে কানেক্ট করা ব্লুটুথ কীবোর্ড।
এছাড়া মেমব্রেন কীবোর্ড ও মেকানিক্যাল কীবোর্ড রয়েছে। মেমব্রেন কীবোর্ডে কী এর নিচে মেমব্রেন লেয়ার থাকে। মেকানিক্যাল কীবোর্ডে সাধারণত প্রতিটি কী এর নিচে আলাদা সুইচ থাকে।
১২. কীবোর্ড ব্যবহারের সুবিধা
• বাংলা, ইংরেজি, আরবিসহ বিভিন্ন ভাষায় লেখালেখি করা যায়।
• দ্রুত সংখ্যা ও তথ্য টাইপ করা যায়।
• শর্টকাট দিয়ে অনেক কাজ কম সময়ে করা যায়।
• Word, Excel ও PowerPoint এ কাজ সহজ হয়।
• সফটওয়্যারে প্রয়োজনীয় কমান্ড দেওয়া যায়।
১৩. কীবোর্ড ব্যবহারের সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে
• টাইপ করার সময় হাত ও কবজি স্বাভাবিক অবস্থায় রাখতে হবে।
• কীগুলোতে অতিরিক্ত জোরে চাপ দেওয়া যাবে না।
• কীবোর্ডে পানি বা তরল পড়া থেকে সাবধান থাকতে হবে।
• কীবোর্ড নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
• ওয়্যারলেস কীবোর্ড কাজ না করলে চার্জ ও কানেকশন চেক করতে হবে।
• টাইপিং স্পিড বাড়াতে নিয়মিত টাইপিং করতে হবে।
লিখেছেন: মাহমুদ হায়েসান
ফাউন্ডার অ্যান্ড সিইও, কম্পিউটার স্কুল।
