ক তে কম্পিউটার ।

Mahmud Hasan পড়তে ৮ মিনিট ৪ বার পড়াBasic Computer
সূচিপত্রদেখতে ট্যাপ করুন

কম্পিউটার কী? কম্পিউটারের ইতিহাস, প্রকারভেদ ও ব্যবহার ।

কম্পিউটার। শব্দটা শুনলেই আমাদের চোখের সামনে একটা মনিটর, কীবোর্ড আর মাউস ভেসে ওঠে। ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ, সবাই কমবেশি কম্পিউটার চেনেন। কিন্তু কাউকে যদি প্রশ্ন করা হয়, কম্পিউটার আসলে কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে? তাহলে অনেকেই হয়তো সহজভাবে উত্তর দিতে পারবেন না।

আমরা প্রতিদিন পড়াশোনা, অফিসের কাজ, ব্যবসা, যোগাযোগ কিংবা বিনোদনের জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করি। কিন্তু আজকের এই আধুনিক কম্পিউটার একদিনে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে অনেক বছরের গবেষণা, চেষ্টা এবং প্রযুক্তির উন্নয়ন।

আজকের এই টেক্সট টিউটোরিয়ালে আমরা জানব, কম্পিউটার কী, কে প্রথম কম্পিউটার তৈরির ধারণা দিয়েছিলেন, কম্পিউটার কত প্রকার, কোন কাজে কোন ধরনের কম্পিউটার ভালো এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটার কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে।

১. কম্পিউটার কী?

কম্পিউটার হলো একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যা আমাদের দেওয়া ডাটা বা কমান্ড অনুযায়ী কাজ করে এবং রেজাল্ট দেখায়।

কম্পিউটার শব্দটি এসেছে ইংরেজি Compute থেকে, যার অর্থ হিসাব করা। একসময় কম্পিউটার মূলত হিসাব করার জন্য ব্যবহার করা হতো। কিন্তু বর্তমানে কম্পিউটার দিয়ে শুধু হিসাব নয়, আরও অনেক ধরনের কাজ করা যায়।

যেমন, কম্পিউটারে আমরা লেখালেখি করতে পারি, ছবি এডিট করতে পারি, ভিডিও দেখতে পারি, ডিজাইন তৈরি করতে পারি, ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারি এবং বিভিন্ন সফটওয়্যারে কাজ করতে পারি।

কম্পিউটার কীভাবে কাজ করে?

কম্পিউটার সাধারণত তিনটি ধাপে কাজ করে।

১. ইনপুট (Input): আমরা কম্পিউটারকে যে ডাটা বা কমান্ড দিই, সেটিকে ইনপুট বলে।

২. প্রসেসিং (Processing): কম্পিউটার আমাদের দেওয়া ডাটা বা কমান্ড অনুযায়ী যে কাজ করে, সেটিকে প্রসেসিং বলে।

৩. আউটপুট (Output): প্রসেসিং শেষ হওয়ার পর কম্পিউটার যে রেজাল্ট দেখায়, সেটিকে আউটপুট বলে।

উদাহরণ: ধরুন, আপনি কম্পিউটারের ক্যালকুলেটরে ৫ + ৩ হিসাব করতে চান।

প্রথমে কীবোর্ড দিয়ে ৫ + ৩ টাইপ করলেন। এটি ইনপুট।

এরপর কম্পিউটার সংখ্যাগুলো যোগ করল। এটি প্রসেসিং।

সবশেষে স্ক্রিনে ৮ দেখাল। এটি আউটপুট।

অর্থাৎ, কম্পিউটার আমাদের দেওয়া ইনপুট অনুযায়ী প্রসেসিং করে আউটপুট দেয়।

২. কম্পিউটার কে আবিষ্কার করেন?

কম্পিউটার একজন মানুষের একদিনের আবিষ্কার নয়। অনেক বিজ্ঞানী ও গবেষকের দীর্ঘদিনের চেষ্টায় আজকের আধুনিক কম্পিউটার তৈরি হয়েছে।

তবে কম্পিউটারের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একজন হলেন চার্লস ব্যাবেজ (Charles Babbage)। তাঁকে কম্পিউটারের জনক বলা হয়।

চার্লস ব্যাবেজ ছিলেন একজন ব্রিটিশ গণিতবিদ। তিনি ১৮২২ সালে ডিফারেন্স ইঞ্জিন (Difference Engine) নামে একটি হিসাব করার মেশিনের ধারণা দেন।

পরবর্তীতে তিনি অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন (Analytical Engine) নামে আরও উন্নত একটি মেশিনের ডিজাইন করেন। এই মেশিনে ডাটা ইনপুট দেওয়া, হিসাব করা এবং রেজাল্ট পাওয়ার ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা ছিল।

যদিও তাঁর জীবদ্দশায় মেশিনটি সম্পূর্ণ তৈরি হয়নি, তবে তাঁর এই ধারণা আধুনিক কম্পিউটার তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রথম ইলেকট্রনিক কম্পিউটার

১৯৪০ এর দশকে ইলেকট্রনিক কম্পিউটার তৈরির ক্ষেত্রে বড় ধরনের উন্নয়ন হয়।

এই সময় তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটারগুলোর একটি ছিল ENIAC। এটি ১৯৪৫ সালে সম্পন্ন হয় এবং ১৯৪৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচিতি পায়।

ENIAC ছিল অনেক বড় একটি কম্পিউটার। এটি রাখার জন্য একটি বড় রুমের প্রয়োজন হতো এবং এর ওজন ছিল প্রায় ৩০ টন।

বর্তমানের ছোট একটি ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনের তুলনায় সেই কম্পিউটার অনেক বড় হলেও সে সময়ের জন্য এটি ছিল অসাধারণ একটি প্রযুক্তি।

আজ আমরা যে আধুনিক কম্পিউটার ব্যবহার করছি, তা দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলাফল।

৩. কম্পিউটার কত প্রকার ও কী কী?

কম্পিউটারকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা যায়। তবে সাধারণ ব্যবহার অনুযায়ী আমরা কয়েক ধরনের কম্পিউটারের সঙ্গে বেশি পরিচিত।

যেমন, ডেস্কটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট এবং সার্ভার কম্পিউটার।

ডেস্কটপ কম্পিউটার (Desktop Computer)

ডেস্কটপ হলো এমন একটি কম্পিউটার, যা সাধারণত টেবিলে সেটআপ করে ব্যবহার করা হয়।

একটি সাধারণ ডেস্কটপ সেটআপে মনিটর, কীবোর্ড, মাউস এবং কম্পিউটারের মূল সিস্টেম থাকে। তবে অল ইন ওয়ান ডেস্কটপে অনেক পার্ট মনিটরের মধ্যেই থাকে।

ডেস্কটপ সাধারণত অফিস, কম্পিউটার ল্যাব, বাসা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা হয়।

ডেস্কটপ কম্পিউটারের সুবিধা

১. একই বাজেটে অনেক ক্ষেত্রে ল্যাপটপের তুলনায় ভালো পারফরম্যান্স পাওয়া যায়।

২. প্রয়োজন অনুযায়ী বড় মনিটর ব্যবহার করা যায়।

৩. অনেক ডেস্কটপে RAM, Storage এবং অন্যান্য পার্টস আপগ্রেড করা সহজ।

৪. গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, থ্রিডি ডিজাইন ও গেমিংয়ের জন্য শক্তিশালী ডেস্কটপ তৈরি করা যায়।

উদাহরণ: আপনি যদি নিয়মিত অফিসে বসে গ্রাফিক ডিজাইন বা ভিডিও এডিটিং করেন, তাহলে ভালো কনফিগারেশনের একটি ডেস্কটপ আপনার জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।

ল্যাপটপ (Laptop)

ল্যাপটপ হলো এমন একটি কম্পিউটার, যা সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে ব্যবহার করা যায়।

ল্যাপটপের স্ক্রিন, কীবোর্ড, টাচপ্যাড, ব্যাটারি এবং প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার একই ডিভাইসের মধ্যে থাকে।

এতে ব্যাটারি থাকায় চার্জ থাকা অবস্থায় সরাসরি বিদ্যুৎ কানেকশন ছাড়াও কাজ করা যায়।

ল্যাপটপের সুবিধা

১. সহজে ব্যাগে করে বহন করা যায়।

২. বাসা, অফিস, ক্লাসরুম কিংবা ভ্রমণের সময় ব্যবহার করা যায়।

৩. আলাদা মনিটর, কীবোর্ড বা মাউস ছাড়াও কাজ করা যায়।

৪. প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন কনফিগারেশনের ল্যাপটপ পাওয়া যায়।

ল্যাপটপের কয়েকটি পরিচিত ধরন

১. সাধারণ ল্যাপটপ: পড়াশোনা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, Microsoft Office এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়।

২. আল্ট্রাবুক (Ultrabook): সাধারণত পাতলা, হালকা এবং সহজে বহন করার উপযোগী ল্যাপটপ। যারা নিয়মিত বাইরে কাজ করেন, তাদের জন্য সুবিধাজনক।

৩. গেমিং ল্যাপটপ (Gaming Laptop): গেমিং এবং বেশি পারফরম্যান্স প্রয়োজন হয় এমন কাজের জন্য তৈরি করা হয়। সাধারণত এতে শক্তিশালী প্রসেসর ও গ্রাফিক্স সিস্টেম থাকে।

৪. কনটেন্ট ক্রিয়েশন ল্যাপটপ: গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, অ্যানিমেশন এবং অন্যান্য ক্রিয়েটিভ কাজের জন্য উপযোগী কনফিগারেশনের ল্যাপটপ।

ট্যাবলেট কম্পিউটার (Tablet Computer)

ট্যাবলেট হলো টাচস্ক্রিনভিত্তিক একটি কম্পিউটিং ডিভাইস। এটি সাধারণত আকারে ছোট এবং সহজে বহন করা যায়।

ট্যাবলেটে স্ক্রিন টাচ করে বিভিন্ন কাজ করা যায়। কিছু ট্যাবলেটে আলাদা কীবোর্ড ও স্টাইলাস পেনও ব্যবহার করা যায়।

উদাহরণ: অনলাইন ক্লাস করা, ইবুক পড়া, নোট নেওয়া এবং সাধারণ ব্রাউজিংয়ের জন্য ট্যাবলেট ব্যবহার করা যায়।

সার্ভার কম্পিউটার (Server Computer)

সার্ভার হলো এমন একটি কম্পিউটার বা সিস্টেম, যা অন্য কম্পিউটার বা ইউজারকে বিভিন্ন সার্ভিস ও ডাটা প্রদান করে।

সাধারণত ওয়েবসাইট, অ্যাপ্লিকেশন, ডাটাবেজ এবং অনলাইন সার্ভিস পরিচালনার জন্য সার্ভার ব্যবহার করা হয়।

উদাহরণ: আপনি যখন কোনো ওয়েবসাইট ওপেন করেন, তখন সেই ওয়েবসাইটের প্রয়োজনীয় ডাটা সাধারণত একটি সার্ভার থেকে আপনার ব্রাউজারে আসে।

৪. ডেস্কটপ নাকি ল্যাপটপ, কোনটি ভালো?

ডেস্কটপ এবং ল্যাপটপ দুটিই ভালো। তবে আপনার কাজ, বাজেট এবং কোথায় ব্যবহার করবেন, তার ওপর নির্ভর করে কোনটি আপনার জন্য বেশি উপযোগী হবে।

কাজের ধরন

কোনটি ভালো হতে পারে

সাধারণ পড়াশোনা ও অফিসের কাজ

ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ

নিয়মিত বাইরে গিয়ে কাজ করা

ল্যাপটপ

কম বাজেটে ভালো পারফরম্যান্স

অনেক ক্ষেত্রে ডেস্কটপ

গ্রাফিক ডিজাইন

ভালো কনফিগারেশনের ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ

ভিডিও এডিটিং ও থ্রিডি ডিজাইন

শক্তিশালী ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ

গেমিং

ভালো গ্রাফিক্সসহ ডেস্কটপ বা গেমিং ল্যাপটপ

অনলাইন ক্লাস ও ব্রাউজিং

সাধারণ ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ

যেমন, আপনি যদি প্রতিদিন একই অফিসে বসে কাজ করেন, তাহলে ডেস্কটপ নিতে পারেন। আবার যদি বাসা, অফিস ও বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে কাজ করতে হয়, তাহলে ল্যাপটপ বেশি সুবিধাজনক হবে।

৫. আধুনিক যুগে কম্পিউটারের ব্যবহার

বর্তমানে শিক্ষা, অফিস, ব্যবসা, ব্যাংক, চিকিৎসা এবং সরকারি বিভিন্ন কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হচ্ছে।

পড়াশোনা ও শিক্ষাক্ষেত্রে

শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার ব্যবহার করে অনলাইন ক্লাস করতে পারে, অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করতে পারে এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করতে পারে।

এছাড়া পরীক্ষার ফরম পূরণ, রেজাল্ট দেখা, প্রেজেন্টেশন তৈরি এবং অনলাইন কোর্স করার জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।

উদাহরণ: একজন শিক্ষার্থী Microsoft Word দিয়ে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করতে পারে এবং PowerPoint দিয়ে ক্লাসের প্রেজেন্টেশন বানাতে পারে।

অফিস ও চাকরির ক্ষেত্রে

বর্তমানে প্রায় সব ধরনের অফিসেই কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।

অফিসের রিপোর্ট তৈরি, চিঠি লেখা, ডাটা এন্ট্রি, হিসাব রাখা, ইমেইল পাঠানো এবং অনলাইন মিটিং করার জন্য কম্পিউটার প্রয়োজন হয়।

উদাহরণ: একটি অফিসে কর্মীদের উপস্থিতির হিসাব Excel এ রাখা যায় এবং মাসিক রিপোর্ট Word দিয়ে তৈরি করা যায়।

ব্যাংক ও আর্থিক কাজে

ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাব, কাস্টমারের তথ্য, টাকা লেনদেন এবং অনলাইন ব্যাংকিং সার্ভিস পরিচালনায় কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।

উদাহরণ: ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা কম্পিউটার ব্যবহার করে কাস্টমারের অ্যাকাউন্টের তথ্য দেখতে পারেন এবং অনুমোদিত লেনদেন প্রসেস করতে পারেন।

ব্যবসা ও বাণিজ্যে

বর্তমানে ছোট থেকে বড় প্রায় সব ধরনের ব্যবসায় কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।

প্রোডাক্টের হিসাব রাখা, অর্ডার ম্যানেজ করা, ইনভয়েস তৈরি, কাস্টমারের তথ্য রাখা এবং অনলাইনে প্রোডাক্ট বিক্রি করার জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।

উদাহরণ: একটি কাপড়ের দোকানে কম্পিউটার দিয়ে প্রতিদিনের বিক্রির হিসাব রাখা যায়। আবার অনলাইন শপের অর্ডারও কম্পিউটার থেকে ম্যানেজ করা যায়।

যোগাযোগের ক্ষেত্রে

কম্পিউটার ব্যবহার করে ইমেইল, ভিডিও কল, মেসেজ এবং অনলাইন মিটিং করা যায়।

উদাহরণ: Google Meet বা Zoom ব্যবহার করে এক দেশ থেকে অন্য দেশের মানুষের সঙ্গে সরাসরি ভিডিও মিটিং করা যায়।

চিকিৎসাক্ষেত্রে

হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীর তথ্য, মেডিকেল রিপোর্ট, অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং বিভিন্ন টেস্টের ডাটা ম্যানেজ করার জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।

উদাহরণ: একটি হাসপাতালে রোগীর আগের রিপোর্ট ও চিকিৎসার তথ্য কম্পিউটারে সংরক্ষণ করে প্রয়োজনের সময় দেখা যায়।

সরকারি ও সামাজিক কাজে

বর্তমানে অনেক সরকারি সার্ভিস অনলাইনে পাওয়া যায়। এসব সার্ভিস ব্যবহার করার জন্য কম্পিউটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উদাহরণ: জন্মনিবন্ধনের আবেদন, পাসপোর্টের আবেদন, বিভিন্ন পরীক্ষার রেজাল্ট দেখা এবং অনলাইনে সরকারি ফরম পূরণ করা যায়।

গ্রাফিক ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিংয়ে

গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং এবং অ্যানিমেশনের মতো ক্রিয়েটিভ কাজেও কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।

Adobe Photoshop, Illustrator, Premiere Pro এবং After Effects এর মতো সফটওয়্যার দিয়ে বিভিন্ন ডিজাইন ও ভিডিও তৈরি করা যায়।

উদাহরণ: একজন গ্রাফিক ডিজাইনার কম্পিউটারে লোগো, ব্যানার ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন করতে পারেন। আবার একজন ভিডিও এডিটর কম্পিউটার ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন, ইউটিউব ভিডিও এবং অন্যান্য ভিডিও কনটেন্ট এডিট করতে পারেন।

প্রোগ্রামিং ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে

ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ এবং বিভিন্ন সফটওয়্যার তৈরি করার জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।

প্রোগ্রামাররা বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে সফটওয়্যার তৈরি করেন।

উদাহরণ: একটি স্কুলের শিক্ষার্থী ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার, অনলাইন শপ বা মোবাইল অ্যাপ কম্পিউটার ব্যবহার করেই ডেভেলপ করা যায়।

৬. কম্পিউটার ব্যবহারের সুবিধা

কম্পিউটার ব্যবহারের অনেক সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো।

১. দ্রুত কাজ করা যায়। কম্পিউটার দিয়ে অল্প সময়ে অনেক কাজ করা সম্ভব।

২. নির্ভুলভাবে হিসাব করা যায়। সঠিক ডাটা ও কমান্ড দিলে কম্পিউটার খুব দ্রুত হিসাব করতে পারে।

৩. অনেক তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। ডকুমেন্ট, ছবি, ভিডিও এবং বিভিন্ন ফাইল স্টোর করে রাখা যায়।

৪. একসঙ্গে বিভিন্ন কাজ করা যায়। যেমন, ব্রাউজারে তথ্য খোঁজার পাশাপাশি Word এ ডকুমেন্ট তৈরি করা যায়।

৫. যোগাযোগ সহজ হয়। ইমেইল, ভিডিও কল ও অনলাইন মিটিংয়ের মাধ্যমে দূরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।

৬. নতুন দক্ষতা শেখা যায়। কম্পিউটার ব্যবহার করে প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিংসহ বিভিন্ন স্কিল শেখা যায়।

৭. কম্পিউটার ব্যবহারের সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে

কম্পিউটার ব্যবহারের সময় কয়েকটি সাধারণ বিষয় মেনে চলা ভালো।

১. কম্পিউটার পরিষ্কার ও নিরাপদ জায়গায় রাখতে হবে।

২. দীর্ঘ সময় কাজ করলে মাঝে মাঝে চোখ ও শরীরকে বিশ্রাম দিতে হবে।

৩. প্রয়োজনীয় ফাইল নিয়মিত ব্যাকআপ রাখতে হবে।

৪. অপরিচিত ওয়েবসাইট থেকে অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

৫. গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।

৬. কাজ শেষে কম্পিউটার সঠিকভাবে Shut Down করতে হবে।

৭. কম্পিউটারে কোনো সমস্যা হলে না বুঝে সেটিংস পরিবর্তন না করে অভিজ্ঞ কারও সাহায্য নিতে হবে।

লিখেছেন: মাহমুদ হাসান

ফাউন্ডার অ্যান্ড সিইও, কম্পিউটার স্কুল।

শেয়ার করুন:

আরও পড়ুন

মাউস কী? মাউসের পরিচিতি, বাটনের কাজ ও ব্যবহার ।

কম্পিউটার ব্যবহার করার জন্য আমরা কিবোর্ড, মাউসসহ বিভিন্ন ইনপুট ডিভাইস ব্যবহার করি। এর মধ্যে মাউস খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ডিভাইস। কম্পিউটারে কোনো ফাইল বা ফোল্ডার ওপেন করা, সফটওয়্যার ব্যবহার করা, ছবি বা

Mahmud Hasan • ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ৫ মিনিট
পুরো লেখাটি পড়ুন

কীবোর্ড কী? কীবোর্ডের পরিচিতি , কী এর কাজ ও ব্যবহার ।

কম্পিউটারে লেখালেখি করা, কোনো কিছু সার্চ করা, পাসওয়ার্ড টাইপ করা কিংবা বিভিন্ন সফটওয়্যারে কাজ করার জন্য আমরা কীবোর্ড ব্যবহার করি।

Mahmud Hasan • ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ৫ মিনিট
পুরো লেখাটি পড়ুন