মাউস কী? মাউসের পরিচিতি, বাটনের কাজ ও ব্যবহার ।

মাউস কী? মাউসের পরিচিতি, বাটনের কাজ ও ব্যবহার ।

Mahmud Hasan পড়তে ৫ মিনিট ১৬ বার পড়াBasic Computer
সূচিপত্রদেখতে ট্যাপ করুন

কম্পিউটার ব্যবহার করার জন্য আমরা কিবোর্ড, মাউসসহ বিভিন্ন ইনপুট ডিভাইস ব্যবহার করি। এর মধ্যে মাউস খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ডিভাইস। কম্পিউটারে কোনো ফাইল বা ফোল্ডার ওপেন করা, সফটওয়্যার ব্যবহার করা, ছবি বা টেক্সট সিলেক্ট করা এবং বিভিন্ন অপশনে ক্লিক করার জন্য মাউস ব্যবহার করা হয়।

যারা নতুন কম্পিউটার শিখছেন, তাদের শুরুতেই মাউসের ব্যবহার ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। আজকের এই টেক্সট টিউটোরিয়ালে আমরা মাউসের পরিচিতি, মেইন পার্টগুলো, বিভিন্ন বাটনের কাজ এবং মাউসের প্রকারভেদ সম্পর্কে শিখব।

১. মাউস কী?

মাউস হলো কম্পিউটারের একটি ইনপুট ডিভাইস। মাউস ব্যবহার করে আমরা কম্পিউটারের স্ক্রিনে থাকা মাউস পয়েন্টারকে কন্ট্রোল করতে পারি।

আমরা যখন টেবিল বা মাউস প্যাডের ওপর মাউস মুভ করি, তখন স্ক্রিনে থাকা পয়েন্টারও সেই অনুযায়ী মুভ করে। এই পয়েন্টার দিয়ে আইকন, ফাইল, ফোল্ডার, বাটন ও অপশন সিলেক্ট করা যায়। যেমন, ডেস্কটপে থাকা কোনো ফোল্ডারে ডাবল ক্লিক করলে সেটি ওপেন হয়।

২. মাউস কেন ব্যবহার করা হয়?

কম্পিউটারের বিভিন্ন কাজ সহজে ও দ্রুত করার জন্য মাউস ব্যবহার করা হয়। যেমন,

1. ফাইল ও ফোল্ডার সিলেক্ট এবং ওপেন করা।

2. বিভিন্ন সফটওয়্যার ওপেন ও ব্যবহার করা।

3. টেক্সট, ছবি বা অন্য কোনো আইটেম সিলেক্ট করা।

4. ফাইল বা ফোল্ডার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় মুভ করা।

5. ওয়েবসাইট, PDF বা Word ডকুমেন্ট স্ক্রল করা।

6. মেনু ও অপশন থেকে প্রয়োজনীয় কমান্ড সিলেক্ট করা।

7. গ্রাফিক ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যারের টুলস ব্যবহার করা।

8. উইন্ডো ওপেন, ক্লোজ, মিনিমাইজ ও ম্যাক্সিমাইজ করা।

৩. মাউসের মেইন পার্টগুলো কী কী?

একটি সাধারণ মাউসের পাঁচটি মেইন পার্ট রয়েছে। এগুলো হলো লেফট বাটন, রাইট বাটন, স্ক্রল হুইল, বডি এবং কেবল।

পার্টের নাম

কাজ

লেফট বাটন (Left Button)

ফাইল, ফোল্ডার বা আইটেম সিলেক্ট করা এবং বিভিন্ন বাটনে ক্লিক করা।

রাইট বাটন (Right Button)

অতিরিক্ত অপশন বা কনটেক্সট মেনু ওপেন করা।

স্ক্রল হুইল (Scroll Wheel)

ওয়েবসাইট, PDF বা ডকুমেন্টের পেজ ওপর ও নিচে স্ক্রল করা।

বডি (Body)

মাউসের মূল অংশ। এর ভেতরে সেন্সরসহ ইলেকট্রনিক পার্টস থাকে।

কেবল (Cable)

ওয়্যারড মাউসকে কম্পিউটারের সঙ্গে কানেক্ট করা।

সব মাউসে কেবল থাকে না। ওয়্যারলেস মাউস সাধারণত ব্লুটুথ অথবা USB রিসিভারের মাধ্যমে কম্পিউটারের সঙ্গে কানেক্ট করা হয়।

৪. মাউসের কোন বাটনের কী কাজ?

লেফট বাটন (Left Button)

লেফট বাটন দিয়ে সাধারণত সিঙ্গেল ক্লিক, ডাবল ক্লিক এবং ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ করা হয়।

১. সিঙ্গেল ক্লিক (Single Click): লেফট বাটনে একবার ক্লিক করাকে সিঙ্গেল ক্লিক বলে। সাধারণত কোনো ফাইল, ফোল্ডার বা আইটেম সিলেক্ট করতে এটি ব্যবহার করা হয়।

২. ডাবল ক্লিক (Double Click): লেফট বাটনে দ্রুত পরপর দুইবার ক্লিক করাকে ডাবল ক্লিক বলে। ডেস্কটপ থেকে ফাইল, ফোল্ডার বা সফটওয়্যার ওপেন করতে সাধারণত ডাবল ক্লিক করা হয়। তবে ওয়েবসাইটের লিংক ওপেন করতে সাধারণত সিঙ্গেল ক্লিকই যথেষ্ট।

৩. ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ (Drag and Drop): লেফট বাটন চেপে ধরে কোনো আইটেম মুভ করাকে ড্র্যাগ বলে। নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে বাটন ছেড়ে দেওয়াকে ড্রপ বলে। ডেস্কটপের আইকন বা ডিজাইন সফটওয়্যারের এলিমেন্ট মুভ করতে এটি ব্যবহার করা যায়।

রাইট বাটন (Right Button)

রাইট বাটনে একবার ক্লিক করাকে রাইট ক্লিক বলে। কোনো ফাইল, ফোল্ডার বা ডেস্কটপের খালি জায়গায় রাইট ক্লিক করলে সাধারণত কনটেক্সট মেনু (Context Menu) ওপেন হয়।

1. Open: ফাইল বা ফোল্ডার ওপেন করা।

2. Copy: কোনো আইটেম কপি করা।

3. Paste: কপি করা আইটেম পেস্ট করা।

4. Rename: ফাইল বা ফোল্ডারের নাম পরিবর্তন করা।

5. Delete: কোনো আইটেম ডিলিট করা।

6. Properties: ফাইল বা ফোল্ডারের বিস্তারিত তথ্য দেখা।

কোথায় রাইট ক্লিক করা হচ্ছে, তার ওপর মেনুর অপশনগুলো পরিবর্তন হতে পারে।

স্ক্রল হুইল (Scroll Wheel)

লেফট ও রাইট বাটনের মাঝখানে ছোট চাকার মতো পার্টটি হলো স্ক্রল হুইল। এটি ঘুরিয়ে ওয়েবসাইট, PDF বা Word ডকুমেন্টের পেজ ওপর ও নিচে স্ক্রল করা যায়। অনেক সফটওয়্যারে Ctrl চেপে স্ক্রল করলে জুম ইন ও জুম আউট হয়। কিছু মাউসে স্ক্রল হুইল চাপ দিয়ে মিডল ক্লিকও করা যায়।

৫. মাউস পয়েন্টার কী?

স্ক্রিনে ছোট অ্যারো বা তীর চিহ্নটিকে মাউস পয়েন্টার (Mouse Pointer) বলে। কাজ অনুযায়ী পয়েন্টারের চেহারা পরিবর্তন হতে পারে।

1. অ্যারো পয়েন্টার: সাধারণত ফাইল, ফোল্ডার বা অপশন সিলেক্ট করার সময় দেখা যায়।

2. টেক্সট কার্সর: লেখার জায়গায় ইংরেজি I অক্ষরের মতো চিহ্ন দেখা যায়।

3. হ্যান্ড পয়েন্টার: ওয়েবসাইটের লিংকের ওপর নিলে হাতের মতো চিহ্ন দেখা যেতে পারে।

4. লোডিং পয়েন্টার: কোনো কাজ প্রসেস হওয়ার সময় ঘুরতে থাকা চিহ্ন দেখা যায়।

5. রিসাইজ পয়েন্টার: উইন্ডোর সাইজ পরিবর্তনের সময় দুই দিকে অ্যারো দেখা যায়।

৬. মাউস কত প্রকার ও কী কী?

কানেকশন অনুযায়ী

১. ওয়্যারড মাউস (Wired Mouse): কেবলের মাধ্যমে কম্পিউটারের সঙ্গে কানেক্ট করা হয়। সাধারণত USB পোর্টে ব্যবহার করা হয় এবং আলাদা ব্যাটারি লাগে না।

২. ওয়্যারলেস মাউস (Wireless Mouse): সরাসরি কেবল ছাড়াই ব্লুটুথ বা USB রিসিভারের মাধ্যমে কানেক্ট করা যায়। এতে ব্যাটারি বা চার্জের প্রয়োজন হয়।

ট্র্যাকিং টেকনোলজি অনুযায়ী

১. অপটিক্যাল মাউস (Optical Mouse): আলো ও সেন্সর দিয়ে মাউসের মুভমেন্ট ট্র্যাক করে। বাসা, অফিস ও কম্পিউটার ল্যাবে এই ধরনের মাউস বেশি দেখা যায়।

২. লেজার মাউস (Laser Mouse): মুভমেন্ট ট্র্যাক করতে লেজার টেকনোলজি ব্যবহার করে। বিভিন্ন সারফেসে কাজ করতে পারে, তবে পারফরম্যান্স মডেল ও সারফেসের ওপর নির্ভর করে।

৭. মাউসের DPI কী?

DPI এর পূর্ণরূপ Dots Per Inch। মাউসের ক্ষেত্রে DPI দিয়ে সাধারণত পয়েন্টারের মুভমেন্ট কতটা সেনসিটিভ হবে, তা বোঝানো হয়। DPI বেশি হলে একই দূরত্বে মাউস মুভ করে পয়েন্টারকে সাধারণত বেশি দূরে নেওয়া যায়। অনেক মাউসে DPI পরিবর্তন করার জন্য আলাদা বাটন থাকে।

৮. মাউস ব্যবহারের সুবিধা

1. মাউস ব্যবহার করা সহজ। নতুনরাও অল্প সময়ের মধ্যে বেসিক কাজ শিখতে পারে।

2. ফাইল, ফোল্ডার ও অপশন দ্রুত সিলেক্ট করা যায়।

3. ডিজাইন ও এডিটিং সফটওয়্যারের বিভিন্ন টুলস সহজে ব্যবহার করা যায়।

4. ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ দিয়ে আইটেম মুভ করা যায়।

5. বড় ওয়েবসাইট ও ডকুমেন্টে স্ক্রল করা সহজ হয়।

৯. মাউস ব্যবহারের সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে

1. মাউস সমতল ও পরিষ্কার জায়গায় ব্যবহার করতে হবে।

2. মাউস ধরার সময় হাত স্বাভাবিক অবস্থায় রাখতে হবে।

3. বাটনে অপ্রয়োজনীয় জোরে চাপ দেওয়া উচিত নয়।

4. ওয়্যারলেস মাউস কাজ না করলে ব্যাটারি, চার্জ ও কানেকশন চেক করতে হবে।

5. ওয়্যারড মাউস কাজ না করলে USB কানেকশন চেক করতে হবে।

6. পয়েন্টার ঠিকভাবে মুভ না করলে সেন্সর ও মাউস প্যাড পরিষ্কার আছে কি না দেখতে হবে।

7. দীর্ঘ সময় কাজ করলে মাঝে মাঝে হাত ও কবজিকে বিশ্রাম দিতে হবে।

লিখেছেন: মাহমুদ হায়েসান

ফাউন্ডার অ্যান্ড সিইও, কম্পিউটার স্কুল।

আরও পড়ুন

ক তে কম্পিউটার ।

কম্পিউটার। শব্দটা শুনলেই আমাদের চোখের সামনে একটা মনিটর, কীবোর্ড আর মাউস ভেসে ওঠে। ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ, সবাই কমবেশি কম্পিউটার চেনেন।

Mahmud Hasan • ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ৮ মিনিট
পুরো লেখাটি পড়ুন

কীবোর্ড কী? কীবোর্ডের পরিচিতি , কী এর কাজ ও ব্যবহার ।

কম্পিউটারে লেখালেখি করা, কোনো কিছু সার্চ করা, পাসওয়ার্ড টাইপ করা কিংবা বিভিন্ন সফটওয়্যারে কাজ করার জন্য আমরা কীবোর্ড ব্যবহার করি।

Mahmud Hasan • ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ৫ মিনিট
পুরো লেখাটি পড়ুন